প্রেম ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কেউ মুক্ত নয় এর থেকে। আর তা আল্লাহ প্রদত্ত। মন চাইলেই কাউকে ভালোবাসা যায়না। আবার মন চাইলেই কাউকে ভুলে থাকা যায়না। মানুষ কখন যে কার প্রেমে পড়ে যায়, তা ঠাহর করা বড় দায়। কে কখন কার প্রেমে পড়ে যায়, তা কেবল উপরওয়ালার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। মানুষ শৈশব কাটায় একসাথে, চলাফেরা হয় একসাথে, কৈশোরেও সময় কাটে তার সাথে, তবে আপন হয় অন্যজন। সামান্য একটা শব্দের দ্বারাই গড়ে উঠে জনম জনম সম্পর্ক। একবার সাক্ষাতেই গড়ে উঠে অমৃত্য বন্ধন। তা ছিন্ন হওয়ার নয়, তবে মৃত্যুই ঘটাতে পারে খন্ডন। মানুষ যাকে ভালোবাসে তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে সুখের রাজ্যে বাস করবে তার প্রিয় মানুষের সাথে। সুখের সাগরে ভেসে বেড়াবে আমরণ। তবে কয়জনের স্বপ্নটাই বাস্তব হয়। উসামার স্বপ্ন আফিয়াকে নিয়ে। আবার তামীমার স্বপ্ন উসামাকে নিয়ে। কার স্বপ্ন বাস্তব হবে, সেটাতো বাস্তবতাই বলে দিবে।
০১. ভাষার প্রাঞ্জলতা ও আবেগময়তা:
লেখার ভাষা সহজ, মসৃণ ও আবেগপূর্ণ। এতে এমন এক স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে যা পাঠককে গল্পের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করে রাখে।
০২. ধর্ম ও আকাঙ্ক্ষার সমন্বয়:
গল্পে ইসলামী মূল্যবোধ ও মানবিক আকাঙ্ক্ষার সুনিপুণ মেলবন্ধন ঘটেছে। ফলে কাহিনিটি গভীরতা ও বাস্তবতার স্পর্শে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
০৩. আধুনিক জীবনের চ্যালেঞ্জ ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি:
আধুনিক সমাজের নানা সমস্যা ও সংকটকে গল্পে বাস্তবভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, এবং ইসলামের আলোকে তার সমাধানের পথও সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।
০৪. প্রেমের আবেগ ও মানসিক দ্বন্দ্বের বাস্তবতা:
গল্পে প্রেমের আবেগ, মানসিক টানাপোড়েন ও দ্বন্দ্ব এমনভাবে চিত্রিত হয়েছে যে পাঠক সহজেই চরিত্রগুলোর অনুভূতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।
“পেঁচার পায়ে সোনালি রিং”—এই গ্রন্থটি মানবজীবনের পরতে পরতে সঞ্চিত সুখ-দুঃখের এক অপূর্ব লীলাভূমি। এর কিছু পৃষ্ঠায় স্থান করে নিয়েছে কিছু হাসি, কিছু অশ্রু।
এতে রয়েছে এক গ্রামীণ বাবার যাপিত জীবনের চিত্র। ভেজা মাটি আর রুক্ষ রোদ-পোড়া কঠিন দিনগুলোর নির্যাস কলম তার নিজস্ব ভাষায় এঁকে দিয়েছে। যে পিতা কাকডাকা ভোরে লাঙল-জোয়াল কাঁধে তুলে নেন আর গোধূলির আবছা আলোয় বাড়ি ফিরতেন, যাঁর শ্রদ্ধেয়া জননীর লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে পরপারে পাড়ি দিতে হয়—তেমনই এক হতভাগা পিতার মর্মস্পর্শী কষ্টের কাহিনি দিয়ে এ বইয়ের কিছু পাতা হয়েছে কালো।
এখানে পেঁচার জানা-অজানা নানা কথা, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কুসংস্কারের নিগূঢ় দিকগুলিও সাক্ষ্য বহন করেছে।
মানুষ চাইলে অনেক বড় কিছু হতে পারে—শর্ত একটাই, তাকে সঠিক পথ নির্বাচন করে পরিশ্রম করতে হবে। ভুল পথে যতই মেহনত করা হোক না কেন, জীবনে প্রকৃত সফলতা অর্জন করা যায় না। বিষয়টি আমরা সবাই জানি, কিন্তু আমরা প্রায়ই এই চিন্তা করি না—কোন পথটি সঠিক আর কোনটি ভুল। সেই কারণেই অনেক সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমরা ভুল পথ বেছে নিই, যার ফলে আমাদের লক্ষ্য অর্জন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তাছাড়া, মানুষের লক্ষ্যপূরণে সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু সঠিক পথ বেছে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; সমাজের সহযোগিতাও অপরিহার্য। জীবনের এমন অনেক সময় আসে, যখন মানুষ অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন অনুভব করে। যদি সে সময় কেউ সাহায্যের হাত না বাড়ায়, তবে তার পক্ষে সামনে অগ্রসর হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, সে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না।